
ইউজড ল্যাপটপ কেনার আগে কীভাবে টেস্ট করবেন: Windows ও Mac-এর সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬)
পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপের ব্যাটারি রিপোর্ট, SSD হেলথ, মাদারবোর্ড ও হার্ডওয়্যার কীভাবে চেক করবেন — Windows ও Mac-এর প্রতিটা কমান্ডসহ সম্পূর্ণ গাইড।
ইউজড ল্যাপটপ টেস্ট করতে ছয়টা জিনিস পরপর দেখুন: পরিচয় ও লক (সিরিয়াল, মডেল, অ্যাক্টিভেশন), ব্যাটারি (নতুন অবস্থায় কত ধরত আর এখন কত ধরে, কত সাইকেল চলেছে), SSD (হেলথ ও ক্ষয়), মাদারবোর্ড ও হার্ডওয়্যার (BIOS, ক্র্যাশের রেকর্ড, নষ্ট ডিভাইস), স্ক্রিন, কিবোর্ড ও পোর্ট এবং গরম হওয়া ও পারফরম্যান্স। নিচে প্রতিটা ধাপের কমান্ড আছে। আগে Windows, তারপর Mac। ফলাফল ঠিক থাকলে কেমন দেখাবে আর সমস্যা থাকলে কেমন, সেটাও বলা আছে।
একজন টেকনিশিয়ান ঠিক এভাবেই ল্যাপটপ পরীক্ষা করেন। পুরো কাজে প্রায় 30 থেকে 40 মিনিট লাগে। এতে ব্যাটারি, ড্রাইভ, মাদারবোর্ড আর প্রতিটা হার্ডওয়্যারের আসল অবস্থা জানা যায়।
English-এ পড়তে চাইলে: How to Test a Used Laptop Before Buying। সংক্ষেপে জানতে: সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ টেস্ট করার নিয়ম।
চেকলিস্ট: কোনটার পর কোনটা দেখবেন
আগে বডি দেখুন: দাগ, হিঞ্জ, স্ক্রু, পানির দাগ আর সিরিয়াল স্টিকার।
পরিচয় ও লক দেখুন: সিরিয়াল নম্বর, মডেল, Windows অ্যাক্টিভেশন, BIOS পাসওয়ার্ড, কোম্পানি বা Apple ID লক।
ব্যাটারি রিপোর্ট বের করে Design capacity-র সাথে Full charge capacity মিলিয়ে দেখুন।
SSD-র হেলথ, ক্ষয় (wear) আর রিড-রাইট এরর দেখুন।
মাদারবোর্ডের দিক থেকে দেখুন: BIOS-এর তারিখ, ক্র্যাশ ও হার্ডওয়্যার এররের রেকর্ড, সমস্যা করা ডিভাইস।
স্ক্রিন, কিবোর্ড, টাচপ্যাড, স্পিকার, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা, Wi-Fi আর প্রতিটা পোর্ট টেস্ট করুন।
10 মিনিট স্ট্রেস টেস্ট চালিয়ে তাপমাত্রা আর ফ্যানের আচরণ দেখুন।
হার্ডওয়্যারের টেস্টগুলো AvadaBD-র ফ্রি টুল দিয়ে ব্রাউজারেই করা যায়, কিছু ইনস্টল করতে হয় না: ডিসপ্লে টেস্ট, কিবোর্ড টেস্ট, টাচপ্যাড টেস্ট, স্পিকার টেস্ট, মাইক্রোফোন টেস্ট, পোর্ট ও কানেক্টিভিটি টেস্ট এবং পারফরম্যান্স টেস্ট।
শুরুর আগে যা যা লাগবে
চার্জার আর কারেন্ট: পুরো টেস্টে প্রায় 40 মিনিট লাগে। ব্যাটারি ডিসচার্জ টেস্টের সময় ছাড়া বাকি সময় চার্জার লাগিয়ে রাখুন।
পোর্টেবল টুলসহ একটা USB ড্রাইভ: CrystalDiskInfo, HWiNFO ও OCCT ইনস্টল ছাড়াই চলে। তাই ইন্টারনেট ছাড়াও টেস্ট করা যায়।
অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অ্যাকাউন্ট: এই গাইডের বেশিরভাগ কমান্ড Windows-এ Administrator PowerShell-এ, আর Mac-এ sudo অ্যাক্সেসসহ Terminal-এ চালাতে হয়।
গেস্ট বা লোকাল অ্যাকাউন্ট: নিজের Google, Microsoft বা Apple অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন না করে টেস্ট চালান।
ধাপ 1: ল্যাপটপ চালু করার আগে বডি দেখুন
অনেক সমস্যা ল্যাপটপ অন করার আগেই চোখে পড়ে। এখানে পাঁচ মিনিট সময় দিন।
হিঞ্জ ও ঢাকনা: ঢাকনা কয়েকবার খুলুন আর বন্ধ করুন। মসৃণভাবে চলবে, কোনো কটকট শব্দ, নড়বড়ে ভাব বা ফাঁক থাকবে না। হিঞ্জ ঢিলা হলে সেখানে প্লাস্টিক ফাটার সম্ভাবনা থাকে।
স্ক্রু ও জোড়া: নিচের প্লেটের স্ক্রু ক্ষয়ে গেলে, না থাকলে বা একেকটা একেক রকম হলে বোঝা যায় ল্যাপটপ সার্ভিসের জন্য বা কোনো পার্টস বদলাতে আগে খোলা হয়েছে।
নিচের অংশ, ভেন্ট ও পোর্ট: মরিচা বা সাদা দাগ থাকলে পানি ঢুকেছিল। ভেন্টের কাছে প্লাস্টিক গলে গেছে কি না আর USB বা চার্জিং পিন বাঁকা কি না দেখুন।
রাবার ফুট ও ফোলা ভাব: টেবিলে রাখলে ল্যাপটপ নড়লে বা ট্র্যাকপ্যাড একটু উঁচু হয়ে থাকলে ব্যাটারি ফুলে গেছে। এই ব্যাটারি ব্যবহারের আগে বদলাতে হবে।
স্টিকার ও সিরিয়াল মেলানো: নিচের স্টিকারের সিরিয়াল নম্বর BIOS আর অপারেটিং সিস্টেমের সিরিয়ালের সাথে মিলতে হবে (ধাপ 2-এ দেখবেন)। না মিললে সাধারণত মাদারবোর্ড বদলানো হয়েছে।
স্ক্রিনের কিনারা: স্ক্রিন বন্ধ রেখে চাপের দাগ, ফাটল, হলদে ছোপ বা কোণায় আলোর ঝলক (ব্যাকলাইট ব্লিড) আছে কি না দেখুন।
Windows: PowerShell দিয়ে ইউজড ল্যাপটপ টেস্ট
এই অংশের সব কমান্ড Windows 10 ও Windows 11-এ চলে। কিবোর্ডে Windows কী চেপে PowerShell লিখুন, তারপর রাইট-ক্লিক করে Run as administrator চালু করুন। প্রতিটা কমান্ড হুবহু কপি করে পেস্ট করুন। কমান্ডগুলো আলাদা বোল্ড লাইনে দেওয়া আছে, তাই পুরো লাইন সিলেক্ট করে কপি করলেই হবে। অনেক পুরোনো গাইডে wmic কমান্ড দেখা যায়, কিন্তু Microsoft নতুন Windows 11 থেকে ওটা সরিয়ে দিয়েছে। তাই এখানে সব জায়গায় চলে এমন PowerShell কমান্ডই দেওয়া হয়েছে।
Windows ধাপ 2: পরিচয়, স্পেক ও লক
সিস্টেম থেকে ল্যাপটপের আসল স্পেক পড়ে নিন, তারপর প্রোডাক্ট লিস্টিংয়ের সাথে মিলিয়ে দেখুন: প্রসেসরের মডেল, RAM, স্টোরেজ আর গ্রাফিক্স।
মডেল, কোম্পানি ও সিরিয়াল নম্বর:
Get-CimInstance Win32_ComputerSystem | Select-Object Manufacturer, Model, TotalPhysicalMemory
Get-CimInstance Win32_BIOS | Select-Object SerialNumber, SMBIOSBIOSVersion, ReleaseDate
প্রসেসরের নাম, কোর সংখ্যা আর স্পিড:
Get-CimInstance Win32_Processor | Select-Object Name, NumberOfCores, NumberOfLogicalProcessors, MaxClockSpeed
RAM মডিউলের ক্যাপাসিটি, স্পিড আর কোম্পানি। এখান থেকে বোঝা যাবে কয়টা স্লট ভরা আছে আর RAM সোল্ডার করা কি না:
Get-CimInstance Win32_PhysicalMemory | Select-Object BankLabel, Capacity, Speed, Manufacturer, PartNumber
গ্রাফিক্স কার্ড। গেমিং ল্যাপটপে ইন্টিগ্রেটেড আর ডেডিকেটেড দুটোই দেখা উচিত:
Get-CimInstance Win32_VideoController | Select-Object Name, AdapterRAM, DriverVersion
Windows-এর ভার্সন আর প্রথম কবে ইনস্টল হয়েছিল। রিসেটের পর পুরোনো ল্যাপটপেও ইনস্টলের তারিখ নতুন দেখাতে পারে, এটা স্বাভাবিক:
systeminfo | Select-String "^OS Name","^OS Version","^Original Install Date","^System Boot Time"
Windows অ্যাক্টিভেটেড কি না। ল্যাপটপ স্থায়ীভাবে বা ডিজিটালি অ্যাক্টিভেটেড থাকা উচিত:
slmgr /xpr
slmgr /dli
এই দুটো কমান্ড চালালে ছোট একটা পপ-আপ উইন্ডো আসবে। ফলাফল দেখে সেটা বন্ধ করে তারপর পরের কমান্ড চালান।
কোম্পানি বা স্কুলের লক আছে কি না: অনেক ইউজড বিজনেস ল্যাপটপ আগে কোনো কোম্পানির অফিসে ব্যবহার হয়। এখনো কোম্পানির অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত থাকলে দূর থেকে সেটা লক বা মুছে ফেলা যেতে পারে। এটা দেখতে চালান:
dsregcmd /status
Device State-এর নিচে AzureAdJoined বা DomainJoined লাইনে YES লেখা থাকলে ল্যাপটপটা এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে আছে। ব্যক্তিগত ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারের আগে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে এটা সরাতে হবে।
BitLocker ও TPM: ড্রাইভ এনক্রিপ্টেড থাকলে আর রিকভারি কী না থাকলে রিসেটের পর ডেটা আর পড়া যায় না:
manage-bde -status
Get-Tpm
BIOS পাসওয়ার্ড: ল্যাপটপ রিস্টার্ট দিয়ে BIOS কী চাপুন (ব্র্যান্ড অনুযায়ী F2, F10, Del বা Esc)। সুপারভাইজার পাসওয়ার্ড চাইলে BIOS লক করা, পাসওয়ার্ড সরানো পর্যন্ত কোনো সেটিং বদলানো যাবে না।
Windows ধাপ 3: ব্যাটারি রিপোর্ট
যেকোনো ইউজড ল্যাপটপের জন্য এটাই সবচেয়ে জরুরি রিপোর্ট। একটা কমান্ডেই Windows ব্যাটারির পুরো ইতিহাস একটা ফাইলে বানিয়ে দেয়। আগে খোলা Administrator PowerShell-এ চালান:
powercfg /batteryreport /output "$env:USERPROFILE\battery-report.html"
রিপোর্ট কোথায় সেভ হলো Windows সেটা দেখিয়ে দেবে। নিচের কমান্ডটা দিলে ফাইলটা ব্রাউজারে খুলে যাবে। তারপর নিচের লাইনগুলো পড়ুন:
Start-Process "$env:USERPROFILE\battery-report.html"
Design capacity — ব্যাটারি নতুন থাকতে যতটা ধরত (যেমন 52,000 mWh)।
Full charge capacity — এখন ফুল চার্জে যতটা ধরে (যেমন 41,600 mWh)।
Cycle count — ব্যাটারি কতবার পুরোপুরি চার্জ-ডিসচার্জের মধ্য দিয়ে গেছে।
Installed batteries — ব্যাটারির কোম্পানি ও ধরন। এখান থেকে বোঝা যায় ব্যাটারি আসল কি না।
Battery life estimates ও ইউজেজ হিস্ট্রি — বাস্তবে ব্যাটারি কতক্ষণ চলে।
হেলথ বের করতে একটা ভাগ করলেই হয়: Full charge capacity ÷ Design capacity × 100। যেমন 52,000 mWh-এর ব্যাটারি এখন 41,600 mWh ধরলে হেলথ 80 শতাংশ।
80 শতাংশ বা তার বেশি: ব্যাটারি ভালো আছে। রোজকার কাজে সমস্যা হবে না।
60 থেকে 79 শতাংশ: চলবে, কিন্তু ব্যাটারি ইতিমধ্যে ক্ষয়ে গেছে। এক-দুই বছরের মধ্যে বদলাতে হতে পারে।
60 শতাংশের নিচে বা 800-র বেশি সাইকেল: ব্যাটারি প্রায় শেষ। চার্জ বেশিক্ষণ থাকবে না।
Full charge capacity ঠিক Design capacity-র সমান, অথচ সাইকেল অনেক বেশি: মানটা ভুল হতে পারে। কিছু ব্যাটারি ভুল মান দেখায়। নিচের আসল ডিসচার্জ টেস্টে যাচাই করুন।
আরও বিস্তারিত দেখতে আরও দুটো কমান্ড আছে:
powercfg /energy /output "$env:USERPROFILE\energy-report.html" /duration 60
এই কমান্ড চালিয়ে ল্যাপটপে হাত না দিয়ে 60 সেকেন্ড রেখে দিন। শেষে একটা এনার্জি রিপোর্ট তৈরি হবে, যেখানে পাওয়ারের সমস্যা, ল্যাপটপকে ঘুমাতে না দেওয়া ডিভাইস আর ব্যাটারির সতর্কতা থাকে। আগে Errors অংশটা পড়ুন।
powercfg /a
এটা দেখায় ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার কোন কোন স্লিপ মোড সাপোর্ট করে। আধুনিক ল্যাপটপ ঠিকমতো স্লিপে যেতে না পারলে সাধারণত ফার্মওয়্যার বা ড্রাইভারের সমস্যা থাকে।
আসল ডিসচার্জ টেস্ট: চার্জার খুলে ফেলুন, স্ক্রিনের ব্রাইটনেস সবচেয়ে বেশি করুন আর দশ মিনিট ভিডিও চালান। দেখুন চার্জ কত শতাংশ কমল। সুস্থ ব্যাটারি সাধারণ অফিস ল্যাপটপে দশ মিনিটে প্রায় 4 থেকে 8 শতাংশ কমে। 15 শতাংশ বা তার বেশি কমলে, কিংবা 30 শতাংশে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে রিপোর্টে যা-ই লেখা থাকুক, ব্যাটারি দুর্বল।
চার্জার: আসল চার্জার লাগিয়ে ব্যাটারি আইকনের দিকে তাকান। "plugged in, not charging" বা "unknown adapter" লেখা এলে চার্জার ভুল ওয়াটের বা নষ্ট, অথবা মাদারবোর্ডের চার্জিং পোর্টে সমস্যা আছে।
Windows ধাপ 4: SSD ও হার্ড ড্রাইভের হেলথ
ক্ষয়ে যাওয়া SSD কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই নষ্ট হতে পারে আর সাথে ডেটাও নিয়ে যায়। আগে দ্রুত হেলথ স্ট্যাটাস দেখুন:
Get-PhysicalDisk | Select-Object FriendlyName, MediaType, BusType, HealthStatus, OperationalStatus, Size
HealthStatus-এ অবশ্যই Healthy লেখা থাকতে হবে। লিস্টিংয়ে SSD লেখা থাকলে MediaType-এ SSD থাকতে হবে। এবার ড্রাইভের আসল ক্ষয় আর এররের সংখ্যা দেখুন:
Get-PhysicalDisk | Get-StorageReliabilityCounter | Select-Object DeviceId, Temperature, Wear, PowerOnHours, ReadErrorsTotal, WriteErrorsTotal
Wear — ড্রাইভের মোট আয়ুর কত শতাংশ খরচ হয়ে গেছে। 20-এর নিচে হলে ভালো, 70-এর বেশি হলে ড্রাইভ শেষের দিকে, আর 100 মানে আয়ু শেষ।
PowerOnHours — ড্রাইভ মোট কত ঘণ্টা চালু ছিল। 24 দিয়ে ভাগ করলে দিন পাবেন। 15,000 ঘণ্টা মানে ল্যাপটপটা অনেক বেশি ব্যবহার হয়েছে।
ReadErrorsTotal ও WriteErrorsTotal — শূন্য বা অল্প সংখ্যা হওয়া উচিত, যেটা আর বাড়ছে না। সংখ্যাটা বাড়তেই থাকলে ড্রাইভ নষ্ট হচ্ছে।
ঘর ফাঁকা থাকলে — সাধারণত ড্রাইভ বা ড্রাইভার ওই তথ্য দেয় না। এর মানে এই নয় যে মান শূন্য। তখন নিচের CrystalDiskInfo দিয়ে আরেকবার দেখে নিন।
টেকনিশিয়ানদের ভরসার পুরো SMART রিপোর্টের জন্য USB ড্রাইভ থেকে CrystalDiskInfo-র পোর্টেবল ভার্সন চালান। তিনটা জিনিস দেখুন: Health Status (Good, Caution বা Bad), Total Host Writes আর Percentage Used (NVMe ড্রাইভে) অথবা Reallocated Sectors (পুরোনো SATA ড্রাইভে)। Caution বা Bad দেখালে ড্রাইভটা নিরাপদ নয়। কমান্ড লাইনে দেখতে চাইলে smartmontools ইনস্টল করে চালান:
smartctl --scan
smartctl -a /dev/sda
স্ক্যানে NVMe ড্রাইভ এলে /dev/sda-র জায়গায় তার নাম দিন, যেমন smartctl -a /dev/nvme0। এরপর ফাইল সিস্টেম চেক করুন আর আসল স্পিড মেপে দেখুন:
chkdsk C: /scan
winsat disk -drive c
winsat রিড আর রাইটের স্পিড দেখায়। SATA SSD হলে প্রায় 400 থেকে 550 MB/s, আর NVMe SSD হলে 1,500 MB/s বা তার বেশি আসা উচিত। এর অনেক নিচে হলে ড্রাইভ ধীর হয়ে গেছে বা নষ্ট হচ্ছে। ড্রাইভের আসল সাইজও দেখুন:
Get-Volume | Select-Object DriveLetter, FileSystemLabel, SizeRemaining, Size
মোট সাইজ লিস্টিংয়ের ড্রাইভ সাইজের সাথে মিলতে হবে। যেমন 512 GB ড্রাইভের মোট সাইজ যদি মাত্র 238 GB দেখায়, তাহলে আসলে ওটা 256 GB-এর ড্রাইভ। তাই এই সংখ্যাটা লিস্টিংয়ের সাথে মিলিয়ে নিন।
Windows ধাপ 5: মাদারবোর্ড ও হার্ডওয়্যার হেলথ
Windows-এ "মাদারবোর্ড রিপোর্ট" নামে একটা বাটন নেই, কারণ মাদারবোর্ড একটা মাত্র যন্ত্রাংশ নয়। তবে পাঁচটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করলেই মাদারবোর্ডের অবস্থা বোঝা যায়। প্রতিটার জন্য একটা করে কমান্ড আছে।
1. মাদারবোর্ড কি আসলটাই আছে? বোর্ডের মডেল আর সিরিয়াল পড়ে ল্যাপটপের স্টিকার ও ধাপ 2-এর BIOS সিরিয়ালের সাথে মিলিয়ে দেখুন:
Get-CimInstance Win32_BaseBoard | Select-Object Manufacturer, Product, SerialNumber, Version
2. BIOS কি নতুন আর অবিকৃত? "2023 মডেল" ল্যাপটপে পাঁচ বছর আগের BIOS থাকলে সেটা অস্বাভাবিক। কোম্পানি, ভার্সন আর তারিখ দেখুন:
Get-CimInstance Win32_BIOS | Select-Object Manufacturer, SMBIOSBIOSVersion, ReleaseDate
3. ল্যাপটপ কখনো ক্র্যাশ করেছে বা হার্ডওয়্যার এরর দিয়েছে কি না? Windows প্রতিটা হঠাৎ বন্ধ হওয়া আর হার্ডওয়্যার এরর লিখে রাখে। শেষ কয়েকটা দেখুন:
Get-WinEvent -FilterHashtable @{LogName="System"; Id=41,1001,6008} -MaxEvents 15 | Select-Object TimeCreated, Id, Message | Format-List
Get-WinEvent -FilterHashtable @{LogName="System"; ProviderName="Microsoft-Windows-WHEA-Logger"} -MaxEvents 10 | Format-List TimeCreated, Message
Event 41 মানে হঠাৎ পাওয়ার চলে যাওয়া, 1001 মানে ব্লু-স্ক্রিন ক্র্যাশ, আর 6008 মানে ঠিকমতো শাটডাউন না হওয়া। WHEA-Logger-এর ইভেন্ট মানে প্রসেসর, মেমরি বা মাদারবোর্ড নিজেই কোনো হার্ডওয়্যার এরর জানিয়েছে। কয়েক মাস আগের এক-দুইটা থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু গত কয়েক দিনেই অনেকগুলো থাকলে কোনো একটা যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। PowerShell যদি "No events were found" লেখে, সেটা ভালো লক্ষণ, কোনো এরর নয়।
4. কোনো ডিভাইস নষ্ট বা হারিয়ে গেছে কি না? Windows যেসব ডিভাইসে সমস্যা দেখছে, সেগুলোর তালিকা বের করুন:
pnputil /enum-devices /problem
Get-PnpDevice -PresentOnly | Where-Object Status -ne "OK" | Select-Object FriendlyName, Class, Status
সব ঠিক থাকলে কিছুই দেখাবে না। "Unknown device" বা এরর কোডসহ ক্যামেরা, Wi-Fi কার্ড বা টাচপ্যাড এলে বুঝবেন হার্ডওয়্যারের সমস্যা, ড্রাইভার নেই, অথবা কোনো যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়েছে।
5. RAM ঠিক আছে কি না? খারাপ RAM থাকলে ল্যাপটপ হঠাৎ হ্যাং বা ক্র্যাশ করে, ফাইলও নষ্ট হয়। Windows-এর মেমরি টেস্ট চালান:
mdsched.exe
Restart now and check for problems বেছে নিন। ল্যাপটপ রিস্টার্ট হয়ে প্রায় 10 থেকে 15 মিনিট মেমরি টেস্ট করবে, আর লগইনের পর ফলাফল দেখাবে। আরও ভালোভাবে দেখতে চাইলে USB থেকে MemTest86 চালাতে পারেন।
শেষে অপারেটিং সিস্টেমের ফাইলগুলো ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। হঠাৎ বন্ধ হওয়ার পর এগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়:
sfc /scannow
DISM /Online /Cleanup-Image /CheckHealth
Windows ধাপ 6: নেটওয়ার্ক, Wi-Fi, Bluetooth ও পোর্ট
netsh wlan show wlanreport
এই কমান্ড একটা Wi-Fi রিপোর্ট বানায় (সেভ হয় C:\ProgramData\Microsoft\Windows\WlanReport\wlan-report-latest.html ফাইলে)। এখানে গত তিন দিনে কখন Wi-Fi কানেক্ট আর ডিসকানেক্ট হয়েছে সব থাকে। বারবার কানেকশন ছুটে গেলে Wi-Fi কার্ড বা অ্যান্টেনার তারে সমস্যা আছে।
ipconfig /all
ping -n 20 8.8.8.8
বিশটা রিপ্লাইতেই কোনো প্যাকেট না হারালে আর সময় একরকম থাকলে নেটওয়ার্ক কার্ড ঠিক আছে। Bluetooth-এর জন্য ফোন বা ইয়ারবাড পেয়ার করে দেখুন কানেকশন টিকে থাকে কি না। তারপর প্রতিটা USB পোর্টে একে একে পেনড্রাইভ লাগান। মনিটর বা টিভিতে HDMI আউটপুট, হেডফোন জ্যাক, SD কার্ড স্লট আর চার্জিং পোর্টও চেক করুন। ঢিলা বা নষ্ট পোর্ট ইউজড ল্যাপটপে খুব সাধারণ সমস্যা।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/ports-connectivity
Windows ধাপ 7: স্ক্রিন, কিবোর্ড, টাচপ্যাড, স্পিকার, মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা
কমান্ড দিয়ে ডেড পিক্সেল বা আটকে যাওয়া কি ধরা যায় না। এগুলো নিজের চোখ, কান আর আঙুল দিয়ে, সাথে সঠিক টুল ব্যবহার করে দেখতে হবে। একে একে দেখুন।
স্ক্রিন: পুরো স্ক্রিনে একে একে লাল, সবুজ, নীল, সাদা ও কালো রং দেখান। ডেড পিক্সেল (সবসময় কালো), স্টাক পিক্সেল (সবসময় একই রং), হলদে বা গোলাপি আভা, চাপের দাগ আর কোণা বা কিনারার ব্যাকলাইট ব্লিড খুঁজুন।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/display-test
কিবোর্ড: ফাংশন রো, অ্যারো কি, স্পেসবার আর পাওয়ার বাটনসহ প্রতিটা কি চেপে দেখুন। কোনো কি দুইবার টাইপ হচ্ছে, আটকে যাচ্ছে বা সাড়া দিচ্ছে না কি না লক্ষ করুন। ব্যাকলাইট থাকলে সেটাও জ্বলছে কি না দেখুন।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/keyboard-test
টাচপ্যাড: বাম ক্লিক, ডান ক্লিক, স্ক্রল আর দুই ও তিন আঙুলের জেসচার চেক করুন। পুরো প্যাডেই সাড়া পাওয়া উচিত। কোথাও ডেড জোন বা ঢিলা বাটন থাকলে সমস্যা।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/touchpad-test
স্পিকার: বাম আর ডান চ্যানেল আলাদা করে টেস্ট করুন, তারপর ভলিউম বাড়ান। কড়কড় বা ভনভন শব্দ হলে বা এক পাশ একদম চুপ থাকলে স্পিকার নষ্ট, অথবা তার ঢিলা।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/speaker-test
মাইক্রোফোন: পাঁচ সেকেন্ড নিজের গলা রেকর্ড করে আবার বাজিয়ে শুনুন। শব্দ পরিষ্কার আসা উচিত। বেশি নয়েজ, ইকো বা খুব কম ভলিউম হলে মাইক্রোফোনে সমস্যা আছে।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/microphone-test
ক্যামেরা: ওয়েবক্যাম চালু করে দেখুন ছবি পরিষ্কার কি না, রং স্বাভাবিক কি না। প্রাইভেসি শাটার থাকলে সেটাও ঠিকমতো খোলা-বন্ধ হচ্ছে কি না দেখুন।
Windows ধাপ 8: পারফরম্যান্স আর গরম হওয়া
ল্যাপটপ দেখতে একদম নতুনের মতো হলেও থার্মাল পেস্ট শুকিয়ে গেলে বা ফ্যান নষ্ট হলে দশ মিনিটেই অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। তাই স্ট্রেস টেস্ট চালিয়ে তাপমাত্রা দেখে নিন।
Task Manager (Ctrl + Shift + Esc) খুলে Performance ট্যাবে যান।
USB ড্রাইভ থেকে HWiNFO-র পোর্টেবল ভার্সন (sensors-only মোডে), OCCT বা Cinebench চালান।
10 মিনিট CPU আর GPU-তে লোড দিয়ে তাপমাত্রা আর ক্লক স্পিডের দিকে নজর রাখুন।
CPU-র তাপমাত্রা: লোডের সময় 85 °C-এর নিচে থাকলে ঠিক আছে। বারবার 95 থেকে 100 °C ছুঁয়ে ফেললে কুলিংয়ে সমস্যা আছে।
ক্লক স্পিড: এক মিনিটের মধ্যে স্পিড অনেক কমে গেলে ল্যাপটপ গরমের কারণে নিজেই স্পিড কমিয়ে দিচ্ছে (থ্রটলিং)। সাধারণত থার্মাল পেস্ট শুকিয়ে গেলে বা ফ্যানে ধুলো জমলে এমন হয়।
ফ্যানের শব্দ: খটখট বা ঘষার শব্দ হলে ফ্যানের বিয়ারিং ক্ষয়ে গেছে। ফ্যান একদমই না ঘুরলে সেটা নষ্ট।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/performance-test
Mac: Terminal দিয়ে ইউজড MacBook, iMac বা Mac mini টেস্ট
Mac-এ কিছু পরীক্ষা সহজ, কিছু একটু কঠিন। Terminal অ্যাপ খুলুন (Applications-এর ভেতরে Utilities-এ আছে) আর প্রতিটা কমান্ড হুবহু লিখুন বা কপি করে পেস্ট করুন। এই কমান্ডগুলো Intel আর Apple silicon দুই ধরনের Mac-এই, সাম্প্রতিক প্রায় সব macOS ভার্সনে চলে।
Mac ধাপ 2: পরিচয়, স্পেক ও লক
উপরের Apple মেনুতে ক্লিক করে About This Mac খুলুন, আর মডেল, চিপ, মেমরি ও সিরিয়াল নম্বর দেখে নিন। এরপর Terminal থেকে একই তথ্য পড়ুন। Terminal সরাসরি হার্ডওয়্যার থেকে তথ্য পড়ে:
system_profiler SPHardwareDataType
এই একটা কমান্ডেই মডেলের নাম, আইডেন্টিফায়ার, চিপ বা প্রসেসর, কোর সংখ্যা, মেমরি, সিরিয়াল নম্বর আর নতুন Mac-এ Activation Lock Status দেখা যায়। আরও কয়েকটা কমান্ড:
sw_vers
sysctl -n machdep.cpu.brand_string
sysctl hw.memsize
Apple-এর কভারেজ দেখুন: সিরিয়াল নম্বরটা Apple-এর কভারেজ পেজে (checkcoverage.apple.com) দিন। সেখানে মডেল, কেনার তারিখ আর ওয়ারেন্টির অবস্থা দেখা যাবে। পেজের মডেল আপনার হাতের Mac-এর সাথে মিলতে হবে।
Activation Lock: আগের মালিকের Apple ID-র সাথে যুক্ত Mac সেটআপ করা বা ব্যবহার করা যায় না। দুইভাবে দেখে নিন। প্রথমে:
system_profiler SPHardwareDataType | grep "Activation Lock"
এখানে Disabled লেখা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, System Settings খুলে সাইডবারের একদম ওপরে দেখুন। সেখানে Sign in লেখা থাকবে, অন্য কারও নাম নয়। কোনো অ্যাকাউন্ট দেখালে ব্যবহারের আগে iCloud থেকে সাইন-আউট করে Find My থেকে Mac সরিয়ে নিন।
কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট (MDM) আছে কি না: কোম্পানি বা স্কুলের Mac ডিভাইস ম্যানেজমেন্টে যুক্ত থাকতে পারে, যা Mac লক বা সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে:
profiles status -type enrollment
ফলাফলে Enrolled via DEP: No আর MDM enrollment: No থাকতে হবে। অন্য কিছু দেখালে ম্যানেজমেন্ট প্রোফাইল এখনো লাগানো আছে। Intel Mac হলে চালু করার সময় Command + R চেপে ধরে রাখুন। ফার্মওয়্যার পাসওয়ার্ড চাইলে Mac লক করা, রিইনস্টল করা বা অন্য ড্রাইভ থেকে বুট করা যাবে না।
Mac ধাপ 3: ব্যাটারি হেলথ ও সাইকেল কাউন্ট
System Settings, তারপর Battery, তারপর Battery Health-এর পাশের তথ্য আইকন খুলুন। এখানে Maximum Capacity শতাংশে আর ব্যাটারির অবস্থা দেখা যাবে। আসল সংখ্যাগুলো দেখতে Terminal ব্যবহার করুন:
system_profiler SPPowerDataType | grep -E "Cycle Count|Condition|Maximum Capacity"
ioreg -rn AppleSmartBattery | grep -E "CycleCount|DesignCapacity|MaxCapacity|AppleRawMaxCapacity|Temperature"
সাইকেল কাউন্ট: Apple বেশিরভাগ আধুনিক MacBook-এর ব্যাটারিকে 1,000 সাইকেলের জন্য রেটিং দেয়। পুরোনো মডেলে এটা 300 বা 500। আপনার মডেলের সীমা Apple-এর battery cycle count পেজে দেখে নিন। রেটিংয়ের 80 শতাংশ সাইকেল পার হলে ব্যাটারি শেষের দিকে।
Maximum Capacity: 80 শতাংশ বা তার বেশি হলে ভালো। 70 থেকে 79 হলে চলে, তবে ব্যাটারি ক্ষয়ে গেছে। 70-এর নিচে বা Condition-এ Service Recommended দেখালে ব্যাটারি বদলাতে হবে।
Condition: Normal থাকতে হবে। Service Recommended বা Replace Soon মানে ব্যাটারি খারাপ।
ব্যাটারি ফোলা: ট্র্যাকপ্যাড উঁচু হয়ে থাকলে, কেস সমানভাবে বন্ধ না হলে বা কিবোর্ড ঠেলে উঠে এলে ব্যাটারি ফুলে গেছে। এই ব্যাটারি বিপজ্জনক, দ্রুত বদলানো দরকার।
Windows-এর মতো এখানেও আসল ডিসচার্জ টেস্ট করুন: চার্জার খুলে ব্রাইটনেস সবচেয়ে বেশি রেখে দশ মিনিট ভিডিও চালান। 12 শতাংশের বেশি কমলে ব্যাটারি দুর্বল।
Mac ধাপ 4: SSD হেলথ ও স্টোরেজ
আধুনিক Mac-এর SSD মাদারবোর্ডে সোল্ডার করা থাকে। তাই ড্রাইভ নষ্ট হলে পুরো Mac-ই নষ্ট। macOS ড্রাইভ সম্পর্কে কী বলছে দেখুন:
diskutil info disk0 | grep -E "Device / Media Name|Solid State|SMART Status|Disk Size"
SMART Status-এ অবশ্যই Verified লেখা থাকতে হবে। অন্য কিছু দেখালে সমস্যা আছে। যেমন আসল ড্রাইভসহ Intel Mac-এ Failing বা Not Supported। তারপর ড্রাইভের লেআউট দেখে ক্যাপাসিটি লিস্টিংয়ের সাথে মিলিয়ে নিন:
diskutil list
df -h /
ড্রাইভে এখন পর্যন্ত কত ডেটা লেখা হয়েছে আর ক্ষয় কতটা, দেখতে Homebrew দিয়ে smartmontools ইনস্টল করে চালান:
brew install smartmontools
sudo smartctl -a disk0
Percentage Used, Data Units Written আর Media and Data Integrity Errors দেখুন। Percentage Used 70-এর বেশি হলে ড্রাইভ অনেক ক্ষয়ে গেছে। এরপর ফাইল সিস্টেম যাচাই করুন:
diskutil verifyVolume /
লেখার স্পিড মোটামুটি মাপতে চাইলে এটা চালান (এটা 1 GB-এর একটা ফাইল বানিয়ে আবার মুছে দেয়):
dd if=/dev/zero of=~/speedtest.tmp bs=1m count=1024 && rm ~/speedtest.tmp
Apple silicon Mac সাধারণত 1,500 MB/s-এর অনেক বেশি স্পিডে লেখে। খুব কম সংখ্যা এলে ড্রাইভ সুস্থ নয়, কিংবা Mac প্রায় ভরে গেছে।
Mac ধাপ 5: লজিক বোর্ড ও হার্ডওয়্যার হেলথ
Apple Diagnostics চালান: এটা Apple-এর নিজের হার্ডওয়্যার টেস্ট। লজিক বোর্ড, মেমরি, ওয়্যারলেস আর সেন্সর পরীক্ষা করে। পাওয়ার ছাড়া বাকি সব ডিভাইস খুলে রাখুন, Mac বন্ধ করুন, তারপর:
Apple silicon (M1 ও পরের মডেল): পাওয়ার বাটন চেপে ধরে রাখুন, স্টার্টআপ অপশন আসা পর্যন্ত। তারপর Command + D চাপুন।
Intel Mac: পাওয়ার বাটন চেপেই D কি চেপে ধরে রাখুন, ডায়াগনস্টিক স্ক্রিন না আসা পর্যন্ত।
ফলাফল হবে No issues found (রেফারেন্স কোড ADP000), অথবা এক বা একাধিক রেফারেন্স কোড। প্রতিটা কোড লিখে রেখে Apple Support-এর "Apple Diagnostics reference codes" পেজে খুঁজে দেখুন। কোনো হার্ডওয়্যার এরর কোড এলে বুঝবেন Mac-এ মেরামত দরকার।
বাকিটা Terminal থেকে দেখুন:
system_profiler SPDisplaysDataType
system_profiler SPUSBDataType SPThunderboltDataType
system_profiler SPAirPortDataType | head -40
system_profiler SPBluetoothDataType | head -30
memory_pressure
প্রথমটা গ্রাফিক্স চিপ আর ডিসপ্লের তথ্য দেখায়। পরের দুটো USB ও Thunderbolt পোর্ট এবং Wi-Fi ও Bluetooth হার্ডওয়্যারের তালিকা দেয়। memory_pressure দেখায় RAM-এর ওপর কতটা চাপ পড়ছে। প্রতিটা পোর্টে কোনো ডিভাইস লাগিয়ে চেক করুন Mac সেটা চিনতে পারছে কি না।
আগে কখনো ক্র্যাশ হয়েছে কি না দেখতে Console অ্যাপ খুলুন (Applications-এর Utilities-এ), তারপর Crash Reports আর Log Reports দেখুন। Terminal থেকে দেখতে চাইলে:
log show --predicate 'eventMessage CONTAINS "panic"' --last 7d | head -20
সফটওয়্যার আপডেটের পর একবার প্যানিক হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু গত এক সপ্তাহে কয়েকবার হয়ে থাকলে হার্ডওয়্যারে সমস্যা আছে।
Mac ধাপ 6: স্ক্রিন, কিবোর্ড, ট্র্যাকপ্যাড, স্পিকার, ক্যামেরা ও পোর্ট
স্ক্রিন: ডেড আর স্টাক পিক্সেল দেখুন। পুরোনো Retina মডেলে StainGate (কোটিং ক্ষয়ে গিয়ে দাগের মতো দেখায়) আর 2016 থেকে 2018 সালের MacBook Pro-তে Flexgate (স্ক্রিনের নিচের দিকে ব্যাকলাইট ম্লান হয়ে যায় বা কাঁপে) আছে কি না খুঁজুন।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/display-test
কিবোর্ড: 2016 থেকে 2019-এর বাটারফ্লাই কিবোর্ডওয়ালা MacBook-এ একটা কি আটকে যাওয়া বা দুইবার টাইপ হওয়া সাধারণ সমস্যা। প্রতিটা কি চেপে দেখুন।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/keyboard-test
ট্র্যাকপ্যাড: চার কোণায় ক্লিক করে দেখুন। Force Touch ট্র্যাকপ্যাড সব জায়গায় সমানভাবে ক্লিক করবে আর জেসচার ঠিকমতো কাজ করবে। Touch ID চেক করতে System Settings-এর Touch ID and Password-এ গিয়ে একটা আঙুলের ছাপ যোগ করে দেখুন।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/touchpad-test
স্পিকার ও মাইক্রোফোন: বাম-ডান চ্যানেলে শব্দ চালান, আর ছোট একটা ক্লিপ রেকর্ড করে শুনুন। কিছু MacBook Pro-তে ভলিউম বেশি দিলে কড়কড় শব্দ হয়, এটা পরিচিত সমস্যা।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/speaker-test
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/microphone-test
ক্যামেরা: ক্যামেরা চালু করে ছবির মান দেখুন আর সবুজ বাতি জ্বলছে কি না দেখুন।
পোর্ট ও চার্জিং: প্রতিটা USB-C বা Thunderbolt পোর্টে পেনড্রাইভ লাগিয়ে দেখুন। সাথে HDMI, SD কার্ড স্লট আর MagSafe থাকলে সেটাও চেক করুন। আসল Apple চার্জারে Mac ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে কি না দেখে নিন।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/ports-connectivity
Mac ধাপ 7: পারফরম্যান্স আর গরম হওয়া
Mac সমতল জায়গায় রেখে দশ মিনিটের স্ট্রেস টেস্ট চালান, যেমন Cinebench অ্যাপ দিয়ে। CPU-তে কতটা লোড পড়ছে দেখতে Activity Monitor খুলে রাখুন। Intel Mac-এ তাপমাত্রা আর ফ্যানের স্পিড দেখতে:
sudo powermetrics --samplers smc -i1000 -n1
Apple silicon Mac-এ একই কাজের কমান্ড:
sudo powermetrics --samplers cpu_power,gpu_power,thermal -i1000 -n1
Intel MacBook এমনিতেই গরম হয় আর প্রায়ই স্পিড কমিয়ে দেয়। Apple silicon MacBook Air-এ ফ্যানই নেই, তাই অনেকক্ষণ ভারী কাজ চালালে একটু ধীর হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু টেস্টের সময় Mac বন্ধ হয়ে গেলে, হ্যাং করলে, বা কিছু না করলেও ফ্যান জোরে চললে সেটা স্বাভাবিক নয়।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/performance-test
Mac ধাপ 8: পরিষ্কার সেটআপ নিশ্চিত করা
System Settings, General, Transfer or Reset, Erase All Content and Settings চালান (সমর্থিত Mac-এ macOS Monterey ও তার পরের ভার্সনে)। এটা iCloud থেকে সাইন-আউট করে, Activation Lock সরিয়ে দেয় আর Mac-কে পরিষ্কার সেটআপের অবস্থায় আনে।
পুরোনো Mac হলে iCloud, iMessage ও App Store থেকে সাইন-আউট করে Disk Utility আর Recovery থেকে macOS আবার ইনস্টল করুন।
রিসেটের পর Mac সেটআপ অ্যাসিস্ট্যান্টে আসবে, আর আগের কোনো অ্যাকাউন্ট চাইবে না।
ফলাফল দেখে কীভাবে বুঝবেন
ব্যাটারি: Design capacity-র 80 শতাংশ বা বেশি হলে ভালো। 60 থেকে 79 শতাংশ হলে ক্ষয়ে গেছে। 60-এর নিচে বা Windows-এ 800-র বেশি সাইকেল হলে (Mac-এ রেটিংয়ের 80 শতাংশের বেশি) ব্যাটারি শেষের দিকে।
SSD: Healthy বা Verified স্ট্যাটাস, কম wear আর শূন্য রিড-রাইট এরর মানে ভালো। Caution, Bad, 80-এর বেশি wear বা বাড়তে থাকা এরর মানে ড্রাইভ নষ্ট হচ্ছে।
সিরিয়াল নম্বর: স্টিকার, BIOS বা macOS আর বক্স, সব জায়গায় একই নম্বর থাকতে হবে।
লক: Windows ল্যাপটপ কোনো কোম্পানির অ্যাকাউন্টে যুক্ত বা BIOS পাসওয়ার্ডে লক থাকবে না। Mac-এ Activation Lock Disabled থাকবে, MDM বা ফার্মওয়্যার পাসওয়ার্ড থাকবে না।
ক্র্যাশ ও হার্ডওয়্যার এররের লগ: পুরোনো দু-একটা স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক অনেকগুলো থাকলে কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।
তাপমাত্রা: লোডে 85 °C-এর নিচে স্বাভাবিক। বারবার 95 থেকে 100 °C ছুঁলে কুলিংয়ে সমস্যা।
ডিভাইস: সমস্যা করা ডিভাইসের তালিকা ফাঁকা থাকবে, আর প্রতিটা পোর্ট, ক্যামেরা, স্পিকার ও মাইক্রোফোন কাজ করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ইউজড ল্যাপটপের ব্যাটারি হেলথ কীভাবে চেক করব?
Windows-এ Administrator PowerShell-এ powercfg /batteryreport চালিয়ে Design capacity-র সাথে Full charge capacity মিলিয়ে নিন। Mac-এ System Settings, Battery, Battery Health দেখুন, বা system_profiler SPPowerDataType চালান। 80 শতাংশ বা তার বেশি হলে ব্যাটারি ভালো।
ইউজড ল্যাপটপের SSD হেলথ কীভাবে চেক করব?
Windows-এ Get-PhysicalDisk | Get-StorageReliabilityCounter আর CrystalDiskInfo ব্যবহার করুন। Mac-এ diskutil info disk0 ও smartctl চালান। দেখুন স্ট্যাটাস Healthy বা Verified কি না, ক্ষয় কম কি না আর কোনো রিড-রাইট এরর আছে কি না।
ল্যাপটপের মাদারবোর্ড চেক করার কোনো একক টেস্ট আছে কি?
একটা মাত্র টেস্ট নেই। বোর্ডের সিরিয়াল আর BIOS দেখুন, ক্র্যাশ ও WHEA হার্ডওয়্যার এররের রেকর্ড পড়ুন, সমস্যা করা ডিভাইসের তালিকা বের করুন, আর Apple Diagnostics বা কোম্পানির নিজস্ব ডায়াগনস্টিক চালান। সব মিলিয়ে মাদারবোর্ডের অবস্থা বোঝা যায়।
একটা ইউজড ল্যাপটপ টেস্ট করতে কত সময় লাগে?
প্রায় 30 থেকে 40 মিনিট। বডি দেখতে 5 মিনিট, ব্যাটারি আর ড্রাইভের রিপোর্টে 10 মিনিট, হার্ডওয়্যার আর পোর্টে 10 মিনিট, আর স্ট্রেস টেস্টে 10 মিনিট।
ব্যাটারির কত সাইকেল হলে বেশি ধরা হয়?
বেশিরভাগ Windows ল্যাপটপে 800-র বেশি সাইকেল হলে, আর Mac-এ রেটিংয়ের (সাধারণত 1,000) 80 শতাংশ পার হলে ব্যাটারি শেষের দিকে।
MacBook-এ Activation Lock আছে কি না কীভাবে বুঝব?
system_profiler SPHardwareDataType | grep "Activation Lock" কমান্ড চালান, আর System Settings-এ অন্য কারও Apple ID আছে কি না দেখুন। স্ট্যাটাস Disabled হতে হবে।
শেষ কথা
ব্যাটারি রিপোর্ট চালান, SSD-র হেলথ পড়ুন, মাদারবোর্ড আর হার্ডওয়্যার দেখুন, প্রতিটা পোর্ট টেস্ট করুন আর মেশিনটাকে একটু চাপে ফেলুন। এই চেকগুলো একসাথে যেকোনো ইউজড ল্যাপটপের আসল অবস্থার পরিষ্কার ছবি দেয়।
AvadaBD-তে ল্যাপটপ দেখুন: সব ল্যাপটপ, Apple, Dell, HP, Lenovo ও Asus।
