AvadaBDhome
0 items in cart
Back to blog
Core i5 8th gen, 10th gen আর 11th gen: ল্যাপটপে আসলে কী তফাত
Laptops

Core i5 8th gen, 10th gen আর 11th gen: ল্যাপটপে আসলে কী তফাত

Intel Core i5 8th gen, 10th gen ও 11th gen ল্যাপটপে আসলে কী তফাত, প্রসেসরের নাম কীভাবে পড়বেন আর কেনার সময় কোনটা কার জন্য ভালো, তার সহজ গাইড।

October 16, 20265 min read

ল্যাপটপে Core i5 লেখা দেখলেই সব i5 এক নয়। 8th gen, 10th gen আর 11th gen i5-এর মধ্যে আসল তফাত হলো গ্রাফিক্স, নতুন ফিচার আর সফটওয়্যার সাপোর্ট। সাধারণ অফিস ও পড়াশোনার কাজে 8th gen i5-ও এখনো চলে, কিন্তু 11th gen i5 গ্রাফিক্স, Wi-Fi আর পোর্টে ভালো একটা ধাপ এগিয়ে। নিচে সহজ করে বলা হলো।

প্রসেসরের নাম কীভাবে পড়বেন

Intel-এর প্রসেসরের নামে জেনারেশন আর মডেলের তথ্য লুকানো থাকে। একটা উদাহরণ দেখুন: Core i5-8250U।

  • i5 — প্রসেসরের ক্যাটাগরি (i3, i5, i7, i9)।

  • 8 — জেনারেশন। 8250 মানে 8th gen। 10210 বা 10110 হলে 10th gen, আর 1135G7 হলে 11th gen।

  • 250 — ওই জেনারেশনের মডেল নম্বর। বড় নম্বর সাধারণত শক্তিশালী।

  • U — শেষে অক্ষর। এটা প্রসেসরের ধরন বলে।

শেষের অক্ষর দেখে ধরন বোঝা যায়:

  • U: কম বিদ্যুৎ খরচ, ব্যাটারি লম্বা। বেশিরভাগ হালকা ও অফিস ল্যাপটপে এটাই থাকে।

  • Y: আরও কম পাওয়ার, খুব পাতলা ল্যাপটপে। পারফরম্যান্স কম।

  • H বা HQ: বেশি শক্তিশালী, গেমিং ও ভারী কাজের ল্যাপটপে। বেশি গরম হয় আর ব্যাটারি কম চলে।

  • G1, G4, G7: 10th ও 11th gen-এ গ্রাফিক্সের স্তর বোঝায়। সংখ্যা বড় হলে গ্রাফিক্স ভালো।

আপনার ল্যাপটপের আসল প্রসেসর দেখতে PowerShell-এ এই কমান্ডটা চালান:

Get-CimInstance Win32_Processor | Select-Object Name, NumberOfCores, NumberOfLogicalProcessors, MaxClockSpeed

ফলাফলে প্রসেসরের পুরো নাম আর কোর সংখ্যা আসবে। বিক্রেতার কথার সাথে মিলিয়ে নিন।

8th gen, 10th gen আর 11th gen: আসল তফাত

8th gen (যেমন i5-8250U, i5-8265U)

8th gen-এ Intel প্রথমবার U-সিরিজের i5 ও i7-তে 4 কোর আর 8 থ্রেড দিয়েছিল। তাই 7th gen-এর তুলনায় মাল্টিটাস্কিং অনেক ভালো। ব্রাউজিং, Word-Excel, অনলাইন ক্লাস আর হালকা কোডিংয়ের জন্য আজও যথেষ্ট। Windows 11 সরকারিভাবে সাপোর্ট করে। তবে গ্রাফিক্স পুরোনো (UHD 620), আর Wi-Fi 6 বা Thunderbolt 4-এর মতো ফিচার সাধারণত নেই।

10th gen (যেমন i5-10210U, i5-1035G1)

10th gen আসলে দুটো আলাদা পরিবারে ভাগ। i5-10210U ধরনের নামগুলো Comet Lake, যেটা 8th gen-এর কাছাকাছি, শুধু কিছু মডেলে কোর বেশি। আর i5-1035G1 ধরনের নামগুলো Ice Lake, যেখানে নতুন আর্কিটেকচার, ভালো গ্রাফিক্স (Iris Plus) আর Wi-Fi 6 সাপোর্ট থাকতে পারে। তাই 10th gen কেনার সময় নামটা ভালো করে দেখুন। 10210U আর 1035G1 এক জিনিস নয়।

11th gen (যেমন i5-1135G7)

11th gen (Tiger Lake) আসলে একটা বড় ধাপ। গ্রাফিক্স Iris Xe, যা আগের UHD-র চেয়ে অনেক ভালো। সাথে Wi-Fi 6, Thunderbolt 4 আর দ্রুত NVMe SSD-র সাপোর্ট থাকে। হালকা এডিটিং, লাইট গেমিং আর মাল্টিটাস্কিংয়ে পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যায়।

একনজরে তুলনা

  • সাধারণ অফিস ও ক্লাস: তিনটাই চলে। 8th gen যথেষ্ট।

  • গ্রাফিক্স ও হালকা এডিটিং: 11th gen সবচেয়ে ভালো, তারপর 10th gen Ice Lake।

  • Windows 11: 8th gen ও তার পরের সব জেনারেশন সরকারিভাবে সাপোর্ট করে। 7th gen ও তার আগের প্রসেসর করে না।

  • ব্যাটারি: নতুন জেনারেশনে সাধারণত একটু ভালো, তবে ব্যাটারির হেলথই আসল।

  • আধুনিক ফিচার (Wi-Fi 6, Thunderbolt 4): 11th gen-এ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

12th gen ও তার পরের নামের ধরন

12th gen থেকে Intel-এর নামকরণ একটু বদলেছে (যেমন i5-1235U)। এখানে হাইব্রিড কোর থাকে, মানে পারফরম্যান্স কোর আর এফিশিয়েন্ট কোর মিশে থাকে। এগুলো আরও নতুন ও ভালো, তবে ইউজড মার্কেটে এখনো কম পাওয়া যায়। জেনারেশন বোঝার সহজ উপায়: নামে i5-এর পরের সংখ্যার প্রথম এক বা দুই অঙ্ক দেখুন।

কোন জেনারেশন কার জন্য

  • সীমিত বাজেট, সাধারণ কাজ: 8th gen i5। এখানে SSD আর 8 GB RAM আছে কি না দেখাটাই বেশি জরুরি।

  • ভালো গ্রাফিক্স ও আধুনিক ফিচার চান: 11th gen i5 বা তার ওপরে।

  • প্রোগ্রামিং বা ভারী মাল্টিটাস্কিং: 10th বা 11th gen i5 বা i7, সাথে 16 GB RAM। প্রোগ্রামিংয়ের গাইড দেখুন।

মনে রাখবেন, প্রসেসরের জেনারেশনের চেয়েও RAM, SSD আর ব্যাটারির অবস্থা অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 11th gen i5 ল্যাপটপে HDD বা 4 GB RAM থাকলে সেটা 8th gen i5-এর SSD ও 8 GB RAM-এর ল্যাপটপের চেয়ে খারাপ লাগবে। কেনার আগে ল্যাপটপটা ঠিকমতো টেস্ট করুন:

👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/performance-test

পুরো টেস্টের নিয়ম আছে আমাদের ইউজড ল্যাপটপ টেস্টের গাইডে।

AMD Ryzen-এর নাম কীভাবে পড়বেন

AMD Ryzen প্রসেসরের নামেও জেনারেশন লুকানো থাকে। যেমন Ryzen 5 3500U-এ প্রথম অঙ্ক 3 মানে 3000 সিরিজ। Ryzen 5 5500U মানে 5000 সিরিজ, যেটা অনেক বেশি আধুনিক। শেষে U অক্ষর কম পাওয়ার খরচের ল্যাপটপের প্রসেসর, আর H মানে বেশি শক্তিশালী ধরনের প্রসেসর। নতুন সিরিজে সাধারণত গ্রাফিক্স আর ব্যাটারি ভালো হয়।

কেনার সময় সাধারণ ভুলগুলো

  • শুধু i7 দেখে কেনা: পুরোনো জেনারেশনের i7 অনেক সময় নতুন জেনারেশনের i5-এর চেয়েও ধীর বা কম দক্ষ হতে পারে। জেনারেশন দেখুন।

  • কোর সংখ্যা না দেখা: 2 কোরের প্রসেসর আর 4 কোরের প্রসেসর অনেক আলাদা। কোর ও থ্রেড সংখ্যা যাচাই করুন।

  • RAM আর SSD উপেক্ষা করা: ভালো প্রসেসর থাকলেও HDD বা 4 GB RAM থাকলে ল্যাপটপ ধীরই লাগবে।

  • বিক্রেতার কথায় ভরসা: নিজে সিস্টেম থেকে প্রসেসরের নাম দেখে নিন।

Task Manager দিয়ে কোর ও থ্রেড দেখুন

Task Manager খুলুন (Ctrl + Shift + Esc), Performance ট্যাবে CPU বেছে নিন। নিচে ডানদিকে Cores আর Logical processors সংখ্যা দেখা যাবে, সাথে প্রসেসরের নাম। এখান থেকেই বিক্রেতার দাবির সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

8th gen i5 কি এখনো কেনার মতো?

হ্যাঁ, সাধারণ অফিস, ক্লাস আর হালকা কোডিংয়ের জন্য। শুধু SSD, কমপক্ষে 8 GB RAM আর ভালো ব্যাটারি আছে কি না দেখে নিন।

10th gen আর 11th gen-এ তফাত কী?

11th gen-এ গ্রাফিক্স অনেক ভালো (Iris Xe), Wi-Fi 6 আর Thunderbolt 4 পাওয়া যায়। 10th gen দুই ধরনের, তাই নামটা দেখে নেওয়া জরুরি।

7th gen প্রসেসরের ল্যাপটপ কি কেনা উচিত?

সাধারণত না। Windows 11 সরকারিভাবে সাপোর্ট করে না আর সফটওয়্যার সাপোর্ট ধীরে ধীরে কমছে।

Core i3 নাকি পুরোনো জেনারেশনের i5 ভালো?

জেনারেশনের ওপর নির্ভর করে। নতুন জেনারেশনের i3 অনেক সময় পুরোনো i5-এর কাছাকাছি চলে। তুলনা করতে প্রসেসরের কোর সংখ্যা আর জেনারেশন দুটোই দেখুন।

Ryzen প্রসেসর কি Intel-এর চেয়ে ভালো?

একই স্তরের Ryzen অনেক সময় কোর সংখ্যায় ভালো। তবে ল্যাপটপের ব্যাটারি, কুলিং আর বাকি স্পেকের ওপর পুরো অভিজ্ঞতা নির্ভর করে। দুটোই ভালো পছন্দ।

শেষ কথা

প্রসেসরের নাম পড়তে শিখলে বিক্রেতার কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ কমে যায়। জেনারেশন, ধরন আর বাকি স্পেক একসাথে দেখে সিদ্ধান্ত নিন। AvadaBD-র ল্যাপটপ ঘুরে দেখুন, আর কেনার আগে অবশ্যই টেস্ট করে নিন।