
Apple Watch নাকি Galaxy Watch: কোনটা কিনবেন
Apple Watch ও Galaxy Watch-এর মধ্যে ফোনের সামঞ্জস্য, ডিজাইন, সফটওয়্যার, ব্যাটারি ও স্বাস্থ্য ফিচারের পার্থক্য এবং iPhone ও Android ব্যবহারকারীর জন্য কোনটা ভালো, তার তুলনা।
Apple Watch আর Galaxy Watch-এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আপনার ফোনের ওপর। আপনার কাছে iPhone থাকলে Apple Watch, কারণ এটা শুধু iPhone-এর সাথে চলে। আপনার কাছে Android ফোন থাকলে Galaxy Watch বা অন্য Wear OS ঘড়ি, কারণ Apple Watch Android-এ কাজ করে না। দুটোর ফিচার, ব্যাটারি, স্বাস্থ্য সুবিধা ও ডিজাইনে আরও যা পার্থক্য আছে, তা নিচে বলা হলো।
ফোনের সামঞ্জস্য: প্রথম আর সবচেয়ে বড় শর্ত
Apple Watch: শুধু iPhone-এর সাথে চলে। Android ফোনের সাথে ব্যবহার করা যায় না।
Galaxy Watch: Android ফোনের সাথে চলে, Samsung ফোনে সেরা অভিজ্ঞতা। iPhone-এর সাথে সাধারণত চলে না বা সীমিত।
তাই আপনি যদি ভবিষ্যতে ফোন বদলানোর কথা ভাবেন, ঘড়িটা নতুন ফোনের সাথে চলবে কি না, সেটাও মাথায় রাখুন।
ডিজাইন ও ব্যবহার
Apple Watch: সাধারণত চতুষ্কোণ (আয়তাকার) ডিসপ্লে। Digital Crown দিয়ে নেভিগেশন। iPhone-এর অ্যাপ ও ফিচারের সাথে গভীর সংযোগ।
Galaxy Watch: সাধারণত গোলাকার ডিসপ্লে, ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির চেহারা। কিছু মডেলে ঘূর্ণনশীল বেজেল বা টাচ বেজেল নেভিগেশন থাকে। ডিসপ্লে সাধারণত Always-On থাকে।
সফটওয়্যার ও অ্যাপ
Apple Watch চলে watchOS-এ, আর বিশাল অ্যাপ স্টোর আছে। Galaxy Watch চলে Google ও Samsung-এর যৌথ Wear OS-এ, যেখানে Google Play থেকে অ্যাপ নামানো যায়। দুটোতেই নোটিফিকেশন, মিউজিক নিয়ন্ত্রণ, ওয়ার্কআউট ও স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং আছে।
ব্যাটারি লাইফ
Apple Watch সাধারণ মডেলে প্রতিদিন চার্জ দেওয়ার মতো, আর Ultra মডেলে বেশি সময় চলে। Galaxy Watch সাধারণত এক থেকে দুই দিন চলে, ব্যবহারের ধরন ও Always-On ডিসপ্লের ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট মডেলের ব্যাটারি সময় প্রস্তুতকারকের স্পেকে দেখুন, কারণ মডেলভেদে অনেক পার্থক্য আছে। এক পুরোনো তুলনায় Galaxy Watch-এ সঠিকভাবে সেট করলে চার দিনের বেশি চলারও উল্লেখ এসেছিল, কিন্তু এটা মডেল ও সেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে।
ফিটনেস ও স্বাস্থ্য ফিচার
দুটোতেই হার্ট রেট, ঘুম, ওয়ার্কআউট ট্র্যাকিং ও GPS (মডেলভেদে) আছে।
Galaxy Watch-এ অনেক ওয়ার্কআউট ধরন বিল্ট-ইন। Apple Watch-এ কম বিল্ট-ইন, তবে অ্যাপের মাধ্যমে বাড়ানো যায়।
ECG, রক্তচাপ বা শরীরের গঠন বিশ্লেষণের মতো ফিচার সব দেশে চালু বা অনুমোদিত নাও থাকতে পারে। কেনার আগে বাংলাদেশে ফিচারটি চালু আছে কি না যাচাই করুন।
এই ফিচারগুলো চিকিৎসার যন্ত্র নয়। স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কার জন্য কোনটা ভালো
iPhone ব্যবহারকারী: Apple Watch। কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে, কারণ ফোনের সাথে সবচেয়ে গভীর সংযোগ।
Samsung ফোন ব্যবহারকারী: Galaxy Watch। Samsung Health সহ সব ফিচার ভালো কাজ করে।
অন্য Android ফোন ব্যবহারকারী: Galaxy Watch বা অন্য Wear OS ঘড়ি। কিছু Samsung-নির্দিষ্ট ফিচার না-ও পাওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘ ব্যাটারি চান: মডেলের স্পেক দেখুন। Apple Watch Ultra ও কিছু Galaxy Watch মডেল বেশি সময় চলে।
সীমিত বাজেট: বাজেট স্মার্টওয়াচ বা পুরোনো মডেলের Apple Watch বা Galaxy Watch বিবেচনা করুন।
ইউজড Apple Watch বা Galaxy Watch কেনার সময় যা দেখবেন
ব্যাটারির অবস্থা: পুরোনো ঘড়িতে চার্জ কত সময় টেকে তা দেখুন। Apple Watch-এ Settings, Battery, Battery Health-এ ব্যাটারি স্বাস্থ্য দেখা যায়।
Activation Lock: Apple Watch পূর্ববর্তী মালিকের Apple Account থেকে সরানো আছে কি না। লক থাকলে ঘড়ি ব্যবহার করা যায় না।
ডিসপ্লে ও গ্লাসে স্ক্র্যাচ বা ফাটল, টাচ ঠিকমতো কাজ করছে কি না।
সেন্সর (হার্ট রেট), বাটন, ডিজিটাল ক্রাউন বা বেজেল ও চার্জারের অবস্থা।
ঘড়িটা Wi-Fi/Bluetooth-এ ফোনের সাথে ঠিকমতো জোড়া লাগে কি না।
👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/display-test
সচরাচর জিজ্ঞাসা
Apple Watch কি Android ফোনের সাথে চলে?
না। Apple Watch শুধু iPhone-এর সাথে চলে।
Galaxy Watch কি iPhone-এর সাথে চলে?
সাধারণত না, বা খুব সীমিত। Galaxy Watch মূলত Android ফোনের জন্য বানানো।
কোন ঘড়ির ব্যাটারি বেশি চলে?
মডেলের ওপর নির্ভর করে। Apple Watch Ultra ও কিছু Galaxy Watch বেশি সময় চলে। সাধারণ Apple Watch-এ প্রতিদিন চার্জ দিতে হয়।
ইউজড স্মার্টওয়াচ কেনা কি ভালো?
ব্যাটারির অবস্থা, Activation Lock ও ডিসপ্লে যাচাই করে নিলে ভালো পছন্দ হতে পারে।
শেষ কথা
iPhone হলে Apple Watch, Android হলে Galaxy Watch। এরপর ব্যাটারি, ডিজাইন ও ফিচার দেখে মডেল বাছুন। স্বাস্থ্য ফিচারের অনুমোদন দেশভেদে আলাদা, তাই আগে যাচাই করুন। AvadaBD-র স্মার্টওয়াচ দেখুন।
