AvadaBDhome
0 items in cart
Back to blog
Apple Watch নাকি Galaxy Watch: কোনটা কিনবেন
Smart Watch

Apple Watch নাকি Galaxy Watch: কোনটা কিনবেন

Apple Watch ও Galaxy Watch-এর মধ্যে ফোনের সামঞ্জস্য, ডিজাইন, সফটওয়্যার, ব্যাটারি ও স্বাস্থ্য ফিচারের পার্থক্য এবং iPhone ও Android ব্যবহারকারীর জন্য কোনটা ভালো, তার তুলনা।

October 23, 20263 min read

Apple Watch আর Galaxy Watch-এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আপনার ফোনের ওপর। আপনার কাছে iPhone থাকলে Apple Watch, কারণ এটা শুধু iPhone-এর সাথে চলে। আপনার কাছে Android ফোন থাকলে Galaxy Watch বা অন্য Wear OS ঘড়ি, কারণ Apple Watch Android-এ কাজ করে না। দুটোর ফিচার, ব্যাটারি, স্বাস্থ্য সুবিধা ও ডিজাইনে আরও যা পার্থক্য আছে, তা নিচে বলা হলো।

ফোনের সামঞ্জস্য: প্রথম আর সবচেয়ে বড় শর্ত

  • Apple Watch: শুধু iPhone-এর সাথে চলে। Android ফোনের সাথে ব্যবহার করা যায় না।

  • Galaxy Watch: Android ফোনের সাথে চলে, Samsung ফোনে সেরা অভিজ্ঞতা। iPhone-এর সাথে সাধারণত চলে না বা সীমিত।

তাই আপনি যদি ভবিষ্যতে ফোন বদলানোর কথা ভাবেন, ঘড়িটা নতুন ফোনের সাথে চলবে কি না, সেটাও মাথায় রাখুন।

ডিজাইন ও ব্যবহার

  • Apple Watch: সাধারণত চতুষ্কোণ (আয়তাকার) ডিসপ্লে। Digital Crown দিয়ে নেভিগেশন। iPhone-এর অ্যাপ ও ফিচারের সাথে গভীর সংযোগ।

  • Galaxy Watch: সাধারণত গোলাকার ডিসপ্লে, ঐতিহ্যবাহী ঘড়ির চেহারা। কিছু মডেলে ঘূর্ণনশীল বেজেল বা টাচ বেজেল নেভিগেশন থাকে। ডিসপ্লে সাধারণত Always-On থাকে।

সফটওয়্যার ও অ্যাপ

Apple Watch চলে watchOS-এ, আর বিশাল অ্যাপ স্টোর আছে। Galaxy Watch চলে Google ও Samsung-এর যৌথ Wear OS-এ, যেখানে Google Play থেকে অ্যাপ নামানো যায়। দুটোতেই নোটিফিকেশন, মিউজিক নিয়ন্ত্রণ, ওয়ার্কআউট ও স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং আছে।

ব্যাটারি লাইফ

Apple Watch সাধারণ মডেলে প্রতিদিন চার্জ দেওয়ার মতো, আর Ultra মডেলে বেশি সময় চলে। Galaxy Watch সাধারণত এক থেকে দুই দিন চলে, ব্যবহারের ধরন ও Always-On ডিসপ্লের ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট মডেলের ব্যাটারি সময় প্রস্তুতকারকের স্পেকে দেখুন, কারণ মডেলভেদে অনেক পার্থক্য আছে। এক পুরোনো তুলনায় Galaxy Watch-এ সঠিকভাবে সেট করলে চার দিনের বেশি চলারও উল্লেখ এসেছিল, কিন্তু এটা মডেল ও সেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে।

ফিটনেস ও স্বাস্থ্য ফিচার

  • দুটোতেই হার্ট রেট, ঘুম, ওয়ার্কআউট ট্র্যাকিং ও GPS (মডেলভেদে) আছে।

  • Galaxy Watch-এ অনেক ওয়ার্কআউট ধরন বিল্ট-ইন। Apple Watch-এ কম বিল্ট-ইন, তবে অ্যাপের মাধ্যমে বাড়ানো যায়।

  • ECG, রক্তচাপ বা শরীরের গঠন বিশ্লেষণের মতো ফিচার সব দেশে চালু বা অনুমোদিত নাও থাকতে পারে। কেনার আগে বাংলাদেশে ফিচারটি চালু আছে কি না যাচাই করুন।

  • এই ফিচারগুলো চিকিৎসার যন্ত্র নয়। স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কার জন্য কোনটা ভালো

  • iPhone ব্যবহারকারী: Apple Watch। কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে, কারণ ফোনের সাথে সবচেয়ে গভীর সংযোগ।

  • Samsung ফোন ব্যবহারকারী: Galaxy Watch। Samsung Health সহ সব ফিচার ভালো কাজ করে।

  • অন্য Android ফোন ব্যবহারকারী: Galaxy Watch বা অন্য Wear OS ঘড়ি। কিছু Samsung-নির্দিষ্ট ফিচার না-ও পাওয়া যেতে পারে।

  • দীর্ঘ ব্যাটারি চান: মডেলের স্পেক দেখুন। Apple Watch Ultra ও কিছু Galaxy Watch মডেল বেশি সময় চলে।

  • সীমিত বাজেট: বাজেট স্মার্টওয়াচ বা পুরোনো মডেলের Apple Watch বা Galaxy Watch বিবেচনা করুন।

ইউজড Apple Watch বা Galaxy Watch কেনার সময় যা দেখবেন

  • ব্যাটারির অবস্থা: পুরোনো ঘড়িতে চার্জ কত সময় টেকে তা দেখুন। Apple Watch-এ Settings, Battery, Battery Health-এ ব্যাটারি স্বাস্থ্য দেখা যায়।

  • Activation Lock: Apple Watch পূর্ববর্তী মালিকের Apple Account থেকে সরানো আছে কি না। লক থাকলে ঘড়ি ব্যবহার করা যায় না।

  • ডিসপ্লে ও গ্লাসে স্ক্র্যাচ বা ফাটল, টাচ ঠিকমতো কাজ করছে কি না।

  • সেন্সর (হার্ট রেট), বাটন, ডিজিটাল ক্রাউন বা বেজেল ও চার্জারের অবস্থা।

  • ঘড়িটা Wi-Fi/Bluetooth-এ ফোনের সাথে ঠিকমতো জোড়া লাগে কি না।

👉 এখানে ফ্রিতে টেস্ট করে নিন (কিছু ইনস্টল করতে হবে না): https://avadabd.com/display-test

সচরাচর জিজ্ঞাসা

Apple Watch কি Android ফোনের সাথে চলে?

না। Apple Watch শুধু iPhone-এর সাথে চলে।

Galaxy Watch কি iPhone-এর সাথে চলে?

সাধারণত না, বা খুব সীমিত। Galaxy Watch মূলত Android ফোনের জন্য বানানো।

কোন ঘড়ির ব্যাটারি বেশি চলে?

মডেলের ওপর নির্ভর করে। Apple Watch Ultra ও কিছু Galaxy Watch বেশি সময় চলে। সাধারণ Apple Watch-এ প্রতিদিন চার্জ দিতে হয়।

ইউজড স্মার্টওয়াচ কেনা কি ভালো?

ব্যাটারির অবস্থা, Activation Lock ও ডিসপ্লে যাচাই করে নিলে ভালো পছন্দ হতে পারে।

শেষ কথা

iPhone হলে Apple Watch, Android হলে Galaxy Watch। এরপর ব্যাটারি, ডিজাইন ও ফিচার দেখে মডেল বাছুন। স্বাস্থ্য ফিচারের অনুমোদন দেশভেদে আলাদা, তাই আগে যাচাই করুন। AvadaBD-র স্মার্টওয়াচ দেখুন।